নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) পরিবহন শাখায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উন্মোচিত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের অভিযোগ, সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের আমলে সিসিকে আসা নির্বাহী প্রকৌশলী ও পরিবহন শাখা প্রধান মোহাম্মদ উল্লাহ সজিবের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট জনগণের ট্যাক্সের টাকায় রীতিমতো হরিলুটের রাজত্ব কায়েম করেছে।
প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, সিসিকের পরিবহন শাখায় সরকারি অর্থের যথেচ্ছ অপব্যবহার চলছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্রয় বা মেরামতের ক্ষেত্রে যেখানে ২০ হাজার টাকা ব্যয় হওয়ার কথা, সেখানে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি তহবিল থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। দুর্নীতিবাজ এই চক্রটিকে নির্বিঘ্নে সচল রাখতে সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে অন্তত ৩০ হাজার টাকা করে মাসোহারা বা অনৈতিক সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগে প্রকাশ পেয়েছে।
এই নজিরবিহীন অনিয়ম ও লুটপাটের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হিসেবে মূল কয়েকজনের নাম স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। মোহাম্মদ উল্লাহ সজিব, নির্বাহী প্রকৌশলী ও পরিবহন শাখা প্রধান (সিন্ডিকেটের মূল হোতা)। মাসুক, পরিবহন শাখার প্রধান চালক (দীর্ঘদিন কোনো গাড়ি না চালিয়েই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিয়মিত বেতন-ভাতা ভোগ করছেন)। বিপ্লব, কর্মচারী সংসদের নেতা ও চালক (সিন্ডিকেটে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী) ও সৈকত, প্রকৌশলী (আর্থিক অনিয়ম ও ভুয়া বিল বাণিজ্যের অন্যতম অংশীদার)।
সিসিকের এই লাগামহীন লুটপাটের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা। সিসিক আমাদের, টাকা আমাদের এই টাকা লুটপাট হতে দেব না এই কঠোর বার্তাকে সামনে রেখে তারা অবিলম্বে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। ১. পরিবহন শাখার বিগত সময়ের সকল বিল ও ভাউচার স্থগিত করে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব যাচাই করতে হবে। ২. দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত চিহ্নিত প্রত্যেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ও ৩. জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের লুটপাট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে সিসিকে একটি শতভাগ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
জনগণের করের টাকায় এমন বেপরোয়া দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সিসিক কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই কড়া নজর রাখছেন সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজ।